শুক্রবার । ৬ই মার্চ, ২০২৬ । ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩২

রোজা আত্মিক রোগের চিকিৎসা

ড. আবু যুবায়ের

আজ ১৬ রমজান। শেষ হয়ে গেলো অর্ধেক রোজা। চলছে মাগফিরাতের দশক। মাগফিরাত অর্থ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা লাভ করা। ক্ষমা লাভ ছাড়াও রোজার রয়েছে অনেক বাহ্যিক ও আধ্যাত্মিক উপকারিতা। মাশায়েখগণ বলেন, “মানুষের মধ্যে রয়েছে অনেক ধ্বংসাত্মক কু-প্রবৃত্তি, যেমন, কাম-ক্রোধ, গর্ব-অহংকার, হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ-লালসা ইত্যাদি। এই প্রবৃত্তিগুলোই সমাজে ঝগড়া-বিবাদ, মারামারি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, দলাদলি, রেষারেষি, ফেতনা-ফ্যাসাদ ও জিনা-ব্যভিচারের মতো মারাত্মক ব্যাধির সৃষ্টি করে।

প্রকৃতপক্ষে রোজার মাধ্যমে এই সমস্ত পশুবৃত্তি ও কু-প্রবৃত্তিকে দমন করা সহজ হয়। ফলে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন হয় রোগমুক্ত। রোজা লজ্জাস্থানের খায়েশ দূর করে। এর ফলে, জিনা-ব্যভিচারের মতো মারাত্মক ব্যাধি থেকে সমাজ বেঁচে যায়। এই কারণে হুজুর (সাঃ) অবিবাহিত যুবক যাদের বিবাহ করার সামর্থ্য নেয় তাদের রোজা রাখার পরামর্শ দিতেন। চোখের হেফাজতও রোজার মাধ্যমে সহজ হয়। রোজা অপ্রয়োজনীয় এবং আজ বাজে কথা বলার খায়েশ দূর করে।

স্বাভাবিকভাবেই, ক্ষুধার্ত অবস্থায় মন বেশী কথা বলতে চায় না। এর ফলে মুখের আপদ তথা মিথ্যা, গিবত, শেকায়েত, চুগলখোরি, বেহুদা কথাবার্তা, ঠাট্টা-বিদ্রুপ, ঝগড়া-বিবাদ থেকে বাঁচা যায়। রোজার মাধ্যমে যেমন আত্মিক রোগ দূর করা যায়, ঠিক তেমনি দৈহিক সুস্থতা ও রোগব্যাধি প্রতিরোধ করা যায়। রোজার মাধ্যমে বিনয় ও বশ্যতা অর্জিত হয়; ধৈর্যধারনের অভ্যাস পয়দা হয়; দর্প ও অহংকার দূর হয় এবং মহান আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা সহজ হয়। এই কারণেই হুজুর (সাঃ) প্রায়ই রোজা রাখতেন ও ক্ষুধার্ত থাকতেন। তাই আসুন, আমরা রোজার মাধ্যমে রুহানি রোগ থেকে মুক্ত হয়ে আমাদের দীলকে মহান আল্লাহর ইবাদতের জন্য তৈরি করি।”

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন